অপরাধ
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন ফোন করেছিলেন রিজেন্টের মালিক সাহেদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিতঃ জুলাই ৯, ২০২০ , ১১:২২ পূর্বাহ্ন
প্রতারক সাহেদ
ফাইল ছবি (মো. সাহেদ)

নানান অভিযোগে জর্জরিত (ইতোমধ্যে সিলগালা) রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম র‌্যাবের অভিযানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফোন করেছিলেন। অভিযানের ব্যাপারে তাকে অবগত করলেও কিছু করার নেই বলে জানান মন্ত্রী।

গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান নিজেই। তিনি জানান, কয়েকবার সচিবালয়ে গিয়েছেন সাহেদ করিম। মন্ত্রীকে তিনি দুটি হাসপাতাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান। এমনকি তাকে অনুরোধ করেন, রোগী থাকলে যেন তিনি পাঠান।

আরও পড়ুন : আসামির সঙ্গে ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের অডিও ফাঁস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেখানে রোগী পাঠিয়েছি। একজন মারা গেছেন। বাকিরা সেরে উঠেছেন।’

তবে সাহেদ করিমকে করোনাভাইরাস মহামারির আগে চিনতেন না বলে জানান আসাদুজ্জামান খান। তিনি আরও জানান, র‌্যাবের অভিযানের পর সাহেদ করিম তাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তিনি কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছবি আছে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের। কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘কেউ কখনো ছবি তুলতে চাইলে তিনি (ওবায়দুল কাদের) না করেন না। সাহেদ করিমকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেনেন না। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।’

জানা গেছে, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন রিজেন্ট গ্রুপের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। তাকে গ্রেপ্তারে র‌্যাবের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে। রিজেন্ট হাসপতালে অভিযানের পরপর নিজের ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন সাহেদ। তবে গত মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাকে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে সক্রিয় দেখা গেছে।

র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সাহেদকে গ্রেপ্তারে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন তিনি। তবে সাহেদ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

সাহেদ করিমের বিলাসবহুল অফিসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তার অফিসকক্ষে ডিজিটাল পাসওয়ার্ডসংবলিত ডোর ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ছয়জন গানম্যান সবসময় তিনি সঙ্গী হিসেবে রাখতেন।

নিরাপত্তাকর্মীরা ওয়াকিটকিসহ নানা ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন। সাহেদের দামি গাড়িতে শোভা পেত ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড। তার সব অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। ওয়াকিটকি ব্যবহারের বৈধ অনুমতিপত্রও নেই সাহেদের।

র‌্যাব কর্মকর্তাদের ধারণা, নিজে প্রতারণাসহ নানা অপরাধ-কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে অর্থ উপার্জন করতেন সাহেদ। তাই ভয় থেকে বাড়তি নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

গত সোমবার রাজধানীর উত্তরার কোভিড ডেডিকেটেড রিজেন্ট হাসপাতালেও অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান পরিচালনাকালে উঠে আসে রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়মের ভয়াবহ সব তথ্য। পরীক্ষা না করেই দেওয়া হতো করোনা পজিটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট। পরে করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব।

বুধবার বিকেলে টেস্ট না করে রিপোর্ট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখার পর এবার মিরপুর শাখাও সিলগালা করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা এবং মিরপুর শাখার সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও। গত সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা এবং প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে র‌্যাব। রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাও সিলগাল করে দেওয়া হয়েছে। সিলগালা করার আগের দিন এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সাহেদ করিমের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। সেখানে তাদের করিম সুপার মার্কেট নামের একটি বিপণিবিতান ছিল। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। তবে মাঝে মাঝে সাতক্ষীরায় যেতেন। তার মা সাফিয়া করিম ২০০৬-০৭ সালের দিকে স্থানীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ওএন/জি

  • 353
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    353
    Shares
  •  
    353
    Shares
  • 353
  •  
  •  
  •  
  •