জাতীয়
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ ৩০ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মগবাজার থেকে অপহৃত শিশু অবশেষে উদ্ধার

ওয়ান নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২০ , ৯:৪৬ অপরাহ্ন
মগবাজার থেকে অপহৃত শিশু অবশেষে উদ্ধার
উদ্ধারের পর বাবার কোলে শিশু সিফাত

রাজধানীর মগবাজার থেকে অপহরণের ১৩ ঘণ্টা পর শিশু সিফাতকে (৪) উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটের কাছেই ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সিফাতের বাবা ফিরোজ হাওলাদার পেশায় রঙমিস্ত্রি। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজার ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। বুধবার সকালে বাসার সামনে খেলার সময় শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা শিশুটির মুক্তিপণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা চান তার পরিবারের কাছে। পুলিশকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় পরিবার প্রথমে পুলিশকে কিছু জানায়নি।

তবে মুক্তিপণের টাকা না থাকায় শেষে বিষয়টি পুলিশকে জানান সিফাতের বাবা। পরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুকের তত্ত্বাবধানে হাতিরঝিল থানার একটি টিম রাত পৌনে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে সিফাতকে।

এর আগে প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের তাড়া করে ডেমরা, মিরপুর, সাভার হয়ে রাত ১১টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছে হাতিরঝিল থানা পুলিশের টিম। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে গ্রামে ফিরতে উদগ্রীব মানুষে জনাকীর্ণ ছিল পাটুরিয়া ঘাট। নৌযান চলাচলও বন্ধ ছিল।

হাতিরঝিল থানা পুলিশের টিমটি দুভাগে ভাগ হয়ে খুঁজতে থাকে সিফাতকে। তাদের হাতে সম্বল সিফাতের দুই বছর বয়সের একটি সাদাকালো ছবি। সিফাতের বাবাকে একটু দূরে গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। যদি অপহরণকারীরা তাকে দেখে সিফাতকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়! সিফাতের বাবাও চাচ্ছিলেন না গাড়ি থেকে নামতে। যদি অপহরণকারীরা তাকে পুলিশের সঙ্গে দেখে সিফাতের কোনো ক্ষতি করে! রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ একটি টং ঘরের দেয়াল ঘেষে ঘুমন্ত অবস্থায় সিফাতকে পায়। গাড়ি থেকে ডেকে আনা হয় তার বাবাকে। বাবাকে দেখে কোলে ঝাপিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকে সিফাত।

শিশু সিফাত জানায়, সে যখন বাসার বাইরে খেলছিল, তখন ‘মিলন মামা’ চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়। মিলন কয়েক মাস ধরে সিফাতের বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। বাসায় প্রায়ই আসতেন। মিলনকে মামা ডাকতো সিফাত।

সিফাতের বাবা ফিরোজ হাওলাদার জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাসার বাইরে একাই খেলছিল সিফাত। সাড়ে ১০টার দিকে তার স্ত্রী সিফাতকে খুঁজে না পাওয়ায় চিৎকার শুরু করেন। অনেক খুঁজেও যখন পাওয়া যাচ্ছিল না তখন দুপুর সোয়া ১টার দিকে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে সিফাতের বাবার মোবাইলে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, সিফাতকে অপহরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তিনি তার ছেলেকে ফিরে পেতে পারেন। পুলিশকে জানালে বা কোনোরকম চালাকি করলে ছেলের লাশের খোঁজও পাবেন না। কিন্তু নিজের কাছে কোনো টাকা না থাকায় পুরো বিষয়টি মোবাইল ফোনে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশীদকে জানান সিফাতের বাবা। পরে পুলিশের পরামর্শে অপহরণকারীদের সঙ্গে মোবাইলে মুক্তিপণের বিষয়ে নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে থাকেন ফিরোজ হাওলাদার।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘শিশুটির অপহরণের খবর পাওয়ার পর অপহৃত সিফাতকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঝড়ের রাতেও পুলিশ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

  • 168
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    168
    Shares
  •  
    168
    Shares
  • 168
  •  
  •  
  •  
  •