প্রযুক্তি
শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক উদ্যোগ ‘Speak’ এখন বাংলাদেশে

কবির আল মাহমুদ, স্পেন
প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৬, ২০১৯ , ১২:৫৪ অপরাহ্ন
বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক উদ্যোগ 'Speak' এখন বাংলাদেশে

মনে করুন আপনি একটি দেশে বা শহরে নতুন আসছেন অভিবাসী, কাজ, পড়াশোনা কিংবা শরনার্থী হয়ে। সেখানে আপনার প্রথম এবং প্রধান প্রতিবন্ধকতা কি? নিশ্চয়ই এক বাক্যে সবাই বলবেন ভাষা এবং সাংস্কৃতিক! হ্যাঁ, সত্যি তাই। সকল আগন্তুকের জন্য এটিই চরম বাস্তবতা। অচেনা অজানায় স্থানীয় মানুষজনের সাথে পরিচয় এবং তাদের আচার আচরণ ও নিয়ম-কানুন নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়।

আর এসবের সমাধানের জন্য ২০১২ সালে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে যাত্রা শুরু করে ‘Speak’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। যেটি এখন বিশ্বের অন্যতম সফল অলাভজনক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃীত এবং বর্তমানে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্বজুড়ে ২৭ টির বেশি শহরে যা ২০২১ সালের মধ্যে ৭৭ টি শহরে বিস্তার করার পরিকল্পনা চলছে।

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ জনপ্রিয় সামাজিক এই উদ্যোগ এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘Speak’ বাংলাদেশে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকার একটি দেশ সহ বিশ্বব্যাপী ১১ টি দেশের ২৭ টি শহরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রথম ঢাকাতে এশিয়ার কোনও শহর হিসেবে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।

‘Speak’ এখন বিশ্বব্যাপী ১৫০ টি দেশের ২৫ হাজার মানুষের বৈশ্বিক এক পরিবার যারা ইতোমধ্যে ভাষা, সাংস্কৃতি ও তাদের জীবনের গল্প একে অন্যের সাথে বিনিময় করেছেন। প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সেতু বন্ধন তৈরি করতে।

‘Speak’ মূলত কাজ করে ভাষা, সাংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত ধারণা ও অভিজ্ঞতা একে-অপরের সাথে আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। এটির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষজনের সাথে অভিবাসী, সাময়িক কাজে আসা বিদেশি দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী, বহি বিশ্বের শিক্ষার্থী এবং শরনার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হয় ভাষা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

এখান থেকে সহজে যেকোন মানুষ যেকোন দেশের ভাষা শিখতে এবং অন্যদের শেখাতে পারেন। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে অনলাইন টু অফলাইন পদ্ধতি যার মাধ্যমে সহজে যেকোন মানুষ একটি দেশের ভাষাতে নিজেকে পারদর্শী করে তুলতে পারে। পাশাপাশি ধারণা নিতে পারে সেদেশে মানুষের আচার ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং সাধারণ নিয়মকানুন সম্পর্কে।

তাছাড়া প্রতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসুতে সামাজিক সচেতনতা মূলত ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। যার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি একে অপরের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারে। এর মাধ্যমে তরুণদের গঠনমূলক ও নতুন নতুন উদ্ভাবনীয় কাজে উৎসাহ প্রদান করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে বাংলাদেশে ‘Speak’ এর প্রতিষ্ঠাতাগন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন প্রত্যাশী। তারা দক্ষ এবং অদক্ষ কাজে দেশের বাহিরে যেতে চায়। তাছাড়া প্রচুরসংখ্যক ছাত্র ছাত্রী বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিতে আগ্রহী। তাই তাদের জন্য সুন্দর একটি প্লাটফর্ম হতে পারে ‘Speak’। কেননা এখান থেকে সহজে যাদের ঐ নিদিষ্ট দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান আছে, তাদের মাধ্যমে তা সরাসরি শিখতে ও চর্চা করতে পারে।

পাশাপাশি যেকেউ চাইলেই অন্যদের মধ্যে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বে এই ধারনাটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্থানীয় মানুষজন, অভিবাসী, দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ও শরনার্থীদের মধ্যে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পর্তুগীজ সরকার, পর্তুগাল অভিবাসন অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন দেশের সরকারি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি ‘Speak’ এর সাথে কাজ করছে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে। বাংলাদেশে ও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বেসরকারি সংস্থার সাথে স্থানীয় বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন।
Website: https://www.speak.social/en/
Contact: rasel@speakfounder.social

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares
  •  
    8
    Shares
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •