চট্টগ্রাম
বৃহঃস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই ও প্রবাসী বোন!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০২০ , ৬:১০ অপরাহ্ন
বানাজা বেগম

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২৫০০ টাকা উপহার প্রদানের ভোক্তা তালিকায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের আপন দু’ভাই, প্রবাসী বোন ও ব্যবসায়ীসহ স্বচ্ছল আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় দিয়ে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি একই উপজেলার জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমদ তার ছেলেকে দিনমজুর এবং ইছানগর ত্রাণ কমিটির সহায়তায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে দিনমজুর সাজিয়ে অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও এখনও এসব জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ এরা সরকারের এই অর্থ সহায়তার সুবিধা ভোগ করেছেন। বিতরণের এমন তালিকা দেখে পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে এলাকার লোকজন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগও দাখিল করেছে।

তালিকায় অন্তর্ভূত নামগুলো

চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের তালিকায় দেখা যায়- ক্রমিক নং-১০৩, নাম মাহবুবুল আলম, পিতা মৃত আছি মিয়া, জন্মতারিখ ১৯৬০/০৭/০৪, বয়স-৫৯, শ্রমিক, জাতীয় পরিচয়পত্র ১৯৬০১৫১৬২৭২৬৩২২৮,খান বাড়ি। ক্রমিক নং-১০৪, ইয়াছমিন আক্তার স্বামী তোইবুর রহমান, জন্মতারিখ ১৯৮৬/০২/০৩, বয়স ৩৪, প্রবাসী, জাতীয় পরিচয়পত্র ১৯৮৬১৫১৬১২৭০০০০৩৩, খান বাড়ি। ক্রমিক নং-১০৫, আশরাফ আলী পিতা ইউসুপ আলী, ১৯৭৫/০৭//১৬, বয়স ৪৪, শ্রমিক, জাতীয় পরিচয়পত্র ১৯৭৫১৫১৬১২৭২৬৩২২৫, খান বাড়ি।

এরা সকলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগমের আত্মীয়। এলাকার হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে তিনি নিজের পরিবারের লোকদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও, চরপাথরঘাটা ইছানগর ৯নং ওয়ার্ডের তালিকায় ক্রমিক নং-৩৬১, মো. আরমান হায়দার, পিতা আলী হায়দার, জন্মতারিখ ১৯৯৭/১১/০৫, দিনমজুর, জন্মনিবন্ধন ৭৮০১৮৭৬৩১, রাজ্জাক মেম্বার বাড়ি। মূলত তিনি দিনমজুর নয়। ছাত্রলীগের ইউনিয়ন সম্পাদক। জুলধা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তালিকায় ক্রমিক নং-২১৫, জেলা কোড-১৫, উপজেলা কোড-৩৯, মহিউদ্দিন টপু, পিতা রফিক আহমদ, জন্মতারিখ ১৯৮৪/০৪/১১, বয়স ৩৬, দিনমজুর, জাতীয় পরিচয়পত্র ১৯৮৪১৫১৬১৫৫৮৯৩৮৫৯, চেয়ারম্যান বাড়ি। তিনি দিনমজুর নয়, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে।

এভাবে এলাকার গরীবদের নাম বাদ দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা তাদের ভাইবোন, ছেলে ও আত্বীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে সুবিধা নিলেও এখনো পর্যন্ত কোনও তদন্ত বা এসব জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তালিকা থেকে তাদের স্বজনদের নামও বাদ দেওয়া হয়নি।

প্রতি পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও কর্ণফুলীর দৌলতপুর গ্রামে একই পরিবারের ৫/৬ জনও এই সুবিধা পেয়েছেন। এতে প্রকৃত গরিব উপকারভোগীরা তালিকায় সুযোগ পায়নি।

সুষ্ঠুভাবে এ অর্থ বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করার কথা থাকলেও কর্ণফুলীতে তা মানা হয়নি। ফলে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনপ্রতিনিধিরা তাদের ভাইবোন ও নিকটাত্মীয় স্বজনদের নাম অন্তর্ভূক্ত করায় দরিদ্ররা সুবিধা না পেয়ে বাদ পড়লেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন বলেন, তালিকা যাচাই বাচাই করে ইতোমধ্যে অনেকে টাকা পয়সাও পেয়েছেন। তবে জনপ্রতিনিধিরা কে কাকে তালিকায় প্রবেশ করিয়েছেন তার লিখিত অভিযোগ হাতে আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares
  •  
    55
    Shares
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •