স্বদেশ
বৃহঃস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুধ নয় জমজ শিশুর ভাগ্যে জুটে ময়দা গোলা

ওয়ান নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিতঃ জুলাই ৩১, ২০২০ , ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
দুধ নয় জমজ শিশুর ভাগ্যে জুটে ময়দা গোলা

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আট মাস বয়সী জমজ শিশু সাফিয়া ও মারিয়া। জন্মের পর প্রথম তিন মাস তাদের ভাগ্যে কেনা দুধ জুটলেও পরে আর জোটেনি। এখন পানিতে চাউলের গুড়া মিশিয়ে আবার পানির সঙ্গে আটা-ময়দা মিশিয়ে তাদের খেতে দেয় মা।

সাফিয়া ও মারিয়ার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে। বাবা আনিসুর রহমান মোটরভ্যান চালক। মা স্বপ্না বেগম মানুষদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে সাফিয়া ও মারিয়ার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ৫নং ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর বেডে রয়েছে ওই দুই জমজ শিশু কন্যা। মা স্বপ্না বেগম জানান, ওদের বয়স এখন ৮ মাস। আমার বুকের দুধ হয়নি। জন্মের তিন মাস পর্যন্ত দুধ কিনে খাইয়েছি। তারপর আর টাকা নেই তাই চাউলের গুড়া পানিতে মিশিয়ে খাওয়াই। আবার ময়দা ও আটা পানিতে গুলিয়ে খেতে দেই। এভাবে গত ৬ মাস ধরে খাওয়াচ্ছি।

তিনি জানান, গত তিন দিন আগে জ্বর মুখ চোঁখ ও শরীর ফুলে যায়। তারপর হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে ওষুধপত্র দিচ্ছে, ডাক্তারও ভালো দেখছে।  ডাক্তার বলেছে, সুস্থ হয়ে যাবে।

ওই ওয়ার্ডে ১৬ নম্বর বেডে অসুস্থ নাতনিকে ভর্তি করে রয়েছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে, ওই বাচ্ছা দুটোকে আল্লাহ্ বাঁচিয়ে রেখেছে তাই বেঁচে আছে। যা খাওয়ানো হয় সেটি কোনও বাচ্চা খায় বলে আমার জানা নেই। ময়দা গুলিয়ে, আটা গুলিয়ে আবার কখনো সুজি কিনে খেতে দিচ্ছে। ভর্তির পর আমি দুধ খাওয়াতে দেখিনি।

যমজ শিশু দুটির বাবা আনিসুর রহমান বলেন, আমি গরীব মানুষ। মোটরভ্যান চালাই। তবে ৪০ দিন চালাতে পারিনি দূর্ঘটনায় পড়ে। দেড় মাস আগে আমাদের ৩নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ২০০ গ্রাম দুধ দিয়েছিল। সেই দুধ বাচ্চাদের খাইয়েছিলাম। অভাবের কারণে কিনে দিতে পারি না। মোটরভ্যানটিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে। বাচ্চা দুটোও হাসপাতালে ভর্তি। আমি বাড়িতে রয়েছি। ওদের মা হাসপাতালে রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ফিংড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনকল বিজি করে দেন।

শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার চিকিৎসা করছেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার। তিনি বলেন, বাচ্চা দুটো জন্মের পর থেকে ভালো দুধ বা পুষ্টিকর কোনও খাবার না পাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শরীরে ফ্লাট ও প্রোটিন কম হয়েছে। আমিষ জাতীয় কোনও খাবার ওই দুই জমজ বাচ্চা পায়নি। ময়দা গুলিয়ে খাওয়ায়। আবার জেনেছি কখনো কখনো কলাপাতা চিবিয়ে তাদের মা খাইয়েছে। এভাবেই বাচ্চা দুটির অপুষ্টিজনিত কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে বাচ্চা দুটির ভালো খাবার দেওয়া। ভালো খাবার খেয়ে যদি শরীরে নিউট্রেশন ফিরে পায় তবে বাচ্চা দুটি সম্পূর্ণরুপে সুস্থ হয়ে যাবে। অভাবী জেনে আমি ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করছি। তাছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ফ্রিতে করে দিয়েছি।

  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    58
    Shares
  •  
    58
    Shares
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •