অপরাধ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকা মেরে উধাও এনজিও মালিক

ওয়ান নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ , ১১:২০ পূর্বাহ্ন
উধাও

কোটি টাকা মেরে দিয়ে পালিয়েছে এনজিও’র মালিক। এমন ঘটনা যে নতুন ঘটেছে তা কিন্তু নয়। ইতোপূর্বে আরও বহু এনজিও গ্রাহকের টাকা মেরে ফতুর করে ছেড়েছে। পরবর্তীতে জানা গেছে এইসব এনজিও ভুয়া। তারপরও সচেতনতার অভাব। অবশ্য যেসব এনজিও গ্রাহককে লোভের ফাঁদে ফেলে প্রতরণা করে আসছে তাদের টেকনিকও সহজে ধরতে পারছে না সাধারণ জনগন।

এবারের ঘটনাটা ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। একতা উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিওর সদস্যদের সঞ্চয়ের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এনজিও চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান উধাও হয়ে গেছেন। ফলে সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সমিতির সদস্যরা।

জানা গেছে, শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডক্টরস কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত সংস্থাটির কার্যালয়। সেখানে প্রায় দুই বছর আগে একতা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি চালু করা হয়। সরকারি কোনো নিবন্ধন না নিয়ে সদস্য ভর্তি ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান ও তার স্ত্রী নাজনীন আকতার। নাজনীন আকতার ওই সমিতির সদস্য সচিব।

পরবর্তীতে প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করে তাদের প্রত্যেকের নামে একাধিক সঞ্চয়ের বই খুলে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করেন। কিন্তু গ্রাহকদের ঋণ দে্য়ওর পরিবর্তে তাদের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান। তবে সমিতির সদস্য সচিব নাজনীন আকতার বাসায় অবস্থান করলেও তিনি অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করছেন না। এমনকি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারেও কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না তিনি।

সমিতির সদস্য সোহেল রানা জানান, তিনি একাই একাধিক বই খুলে ২লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকা সঞ্চয় জমা করেছেন। একইভাবে টুকু মিয়া, সামছুল হক, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই সদস্য হিসেবে সঞ্চয় জমা রেখেছেন। কিন্তু কেউ টাকা ফেরত পাননি। তাদের সবারই সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে রোববার সন্ধ্যার দিকে উধাও হয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান।

এ বিষয়ে একতা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পলাতক থাকায় এবং ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ওই সংগঠনের সদস্য সচিব নাজনীন আকতার তার স্বামী উধাও হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সদস্যদের কিছু কিছু করে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সমিতির সব সদস্যদেরই সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে করোনার কারনে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বগুড়ার শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এই ঘটনার কথা শুনেছি। তবে সমিতির কোন সদস্য এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

  • 66
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    66
    Shares
  •  
    66
    Shares
  • 66
  •  
  •  
  •  
  •